Farzana Ahmed Urmi - Witness to My Own Absence
6 February - 2 March 2026


প্রদর্শনী কথন
ফারজানা আহমেদ উর্র্র্মির চিত্র নির্মাণ, বি- নির্মাণে, শারীরিক- মানসিক চাক্ষুষ ক্ষুধা, উচ্ছ্বাস তাকে এ সময়ের শিল্পচর্চায় উদ্যমী শিল্পীতে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চিত্রকলার মৌলিক ভিত্তির উপর তার সীমাহীন আস্থা, যা ইচ্ছেমত যে কোন কিছু চিত্রিত করার স্বাধীনতা দেয়। স্থান, উপকরণ, বিষয়ভাবনা, উপস্থাপনা, দৃষ্টি-ভঙ্গি, যৌক্তিক মাপ-ঝোক তোয়াক্কা করে- না করেই মুক্ত, আবেগ, কোলাহলপূর্ণ মেলামেশার মধ্যে শিল্পচর্চায় নিমজ্জিত হতে পারেন। আমাদের ভরা মুহূর্ত গুলো ছড়িয়ে থাকে তার চিত্রে- যা ব্যক্তি উর্র্র্মির মানুষিক, শারীরিক, পরিবেশের, অস্থিরতা, সহিংসতা সেই সাথে সৌন্দযেরও।
বিভিন্ন সময়ে করা মানব অবয়ব রূপ নিয়ে চিত্রিত- বিমূর্ত কাজ গুলো নিয়ে উর্র্র্মির এবারের প্রদর্শনী কলাকেন্দ্রে। মানব অবয়ব বা প্রতিকৃতি অংকন, উদযাপন, স্মরণ, পূজার ইতিহাস, শিল্পের ইতিহাসের মতোই প্রাচীন ও এখনো পপুলার। সামাজিক মনোবিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক অধ্যায়নে, সমাজের সম্মিলিত আবেগ, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, পরিবেশের কাঠামোগত অবস্থান, শারীরিক আচরণ, ভাব মানব অবয়বে গ্রন্থিত, মেনে নেয়া হয়।
শিল্পী তার নিজস্ব আবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে বিষয়ের উপর প্রক্ষেপণ করেন। আঁকা এবং কোলাজ করা উপকরণগুলি চিত্রগুলিকে একটি বিস্তৃত সামাজিক এবং ঐতিহাসিক সময়ের অংশ করে তোলে। চিত্র রচনার জন্য পাটাতন, উপকরণ নির্বাচন, সময়, মুহূর্ত, শিল্পীর শারীরিক, মানসিক মিথস্ক্রিয়ায় যা ঘটে তা উর্র্র্মির চিত্রকলা।
শিল্পীর আবেগ, রস, বোধ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, নান্দনিক বোঝাপড়া, শক্তির শারীরিক অংশগ্রহণে চিত্রে বিশেষত্ব তৈরি হয়। বিশাল আকৃতির, মানব অবয়ব রূপে- অরূপে, চিত্রিত- বিমূর্ত রূপে আমাদের জানা- চেনা- অচেনা রূপের- অরূপের বিচিত্রতা বিস্ময় তৈরি করে।
প্রতাপশালী প্রভুদের, প্রয়াতদের প্রতিকৃতি অংকনের ইতিহাস আর 'সেলফি' নির্মাণে আতœমগ্ন সভ্যতার চালকদের প্রতিকৃতি বিষয়ক চিন্তাকে একটু প্রশ্ন করতে চায়- মনে হয়।
ওয়াকিলুর রহমান
শিল্পী, কিউরেটর


